Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৬০ জন
আজকের পাঠক ৭৫ জন
সর্বমোট পাঠক ৭১৩৭৬২ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৮৯৮০৯ বার
+ - R Print

সূরা আদিয়াত


সূরা আদিয়াত বা যারা দৌড়ায় -১০০

১১ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভুমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি প্রাথমিক মক্কী সূরাগুলির অন্যতম। এই সূরাটির ভাবের গাম্ভীর্য ও ভাষার ছন্দের দিক থেকে ৭৯ নং সূরার সাথে তুলনীয়। এই সূরাতে অপ্রতিরোধ্য আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও শক্তির বিপরীতে তুলনা করা হয়েছে মানুষের অকৃতজ্ঞতা, তুচ্ছতা, অসহায়ত্ব এবং অজ্ঞতাকে।


সূরা আদিয়াত বা যারা দৌড়ায় -১০০

১১ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

১। শপথ সেই সব অশ্বরাজির, যারা উর্দ্ধশ্বাসে ধাবমান ; ৬২৪১

৬২৪১। [ ৬-৮ ] আয়াতে যে বিবৃতি দান করা হয়েছে সেই বিবৃতিকে জোড়ালো করা হয়েছে রূপকধর্মী শপথের মাধ্যমে যার বর্ণনা আছে [ ১ -৫ ] আয়াতে। এই শপথের ব্যাখ্যা তিন ভাবে করা সম্ভবঃ

১) যুদ্ধ ক্ষেত্রে ধাবমান অশ্বরাজির দিকে দৃষ্টিপাত করতে বলা হয়েছে। এসব অশ্বরাজি তাদের প্রভুর আদেশে প্রভাতে যুদ্ধক্ষেত্রে অভিযান করে। এভাবেই তারা শত্রুকে দিনের আলোর সুযোগ দান করে। এ সব অশ্বরাজি শত্রুর অস্ত্র এবং ব্যুহ ভেদ করে বীরদর্পে তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে তারা অকুতোভয়, তারা তাদের জীবনের ভয় করে না। তাদের নিকট প্রভুর আদেশ পালনই হচ্ছে সর্বোচ্চ কর্তব্যকর্ম। অকৃতজ্ঞ মানুষ কি কখনও আল্লাহ্‌র প্রতি ততটুকু বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করে ? না; বরং সে আল্লাহ্‌র প্রতি অকৃতজ্ঞ। মানুষের কর্ম-ই প্রমাণ করে যে, সে আল্লাহ্‌ অপেক্ষা ধন সম্পদ অধিক পছন্দ করে। পার্থিব সম্পদের লাভ তা চিরস্থায়ী লাভ নয়।

২) যুদ্ধের অশ্বরাজীর ন্যায় সেই সব সাহসী মানুষ যারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বস্ততার জন্য সংহত হয় এবং সংগ্রাম করে এদেরই বিপরীত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাপুরুষ মানুষ যারা তুচ্ছ এবং অকৃতজ্ঞ।

৩) যুদ্ধ, সংঘর্ষ এবং বিজয় সব কিছু তুলনীয় আধ্যাত্মিক জগতের সাথে। আধ্যাত্মিক জগতের এই যুদ্ধ এবং বিজয় হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যারা সম্পূর্ণ রূপে পাপে নিমজ্জিত।

২। যারা ক্ষুরাঘাতে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বের করে, ৬২৪২

৬২৪২। 'ক্ষুরাঘাতে " অর্থাৎ দ্রুত ধাবমান অশ্বরাজির ক্ষুরের আঘাতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছোটে। যদি আমরা ধারণা করি যে, অশ্বরাজির সারিবদ্ধ দৌড় শুরু হয় রাত্রির শেষ প্রহরে যেনো প্রভাতে তারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে পৌঁছাতে সক্ষম হয়; তবে সে ক্ষেত্রে রাত্রির অন্ধকারে তাদের ক্ষুরাঘাতের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ দৃশ্যমান হবে।

৩। যারা অভিযান করে প্রভাত কালে, ৬২৪৩

৬২৪৩। বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, আক্রমণটি হবে প্রভাতে। কারণ কাপুরুষের ন্যায় রাতের আঁধারে শত্রুকে আক্রমণ করা নয়। বীরত্ব ও পৌরুষ হচ্ছে শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ। দিনের আলো সত্বেও শত্রুরা পরাজিত হবে, তা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র সৈনিকদের তেজ,শক্তি,ও নির্ভীক মনোবলের জন্যই নয়, কারণ শত্রুরা হবে অলস এবং যুদ্ধের জন্য অপ্রস্তুত।

৪। ফলে ধূলির ঝড় উত্থিত করে ৬২৪৪,

৬২৪৪। 'ধূলির ঝড় উত্থিত করে ' বাক্যটি রূপকধর্মী। দ্রুতগামী অশ্বের ক্ষুরের ধূলায় ঝড়ের সৃষ্টি হয় যাতে দৃষ্টি ব্যহত হয়। ঠিক সেরূপ হচ্ছে তাদের অবস্থা যারা আল্লাহ্‌র সত্যকে প্রতিহত করে, তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে,তাদের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি লোপ পায়। ধূলির ন্যায় অজ্ঞতা ও হতবুদ্ধি অবস্থা তাদের স্বাভাবিক বুদ্ধিকে ঢেকে দেয়।

৫। এবং অগ্রবর্তী হয়ে শত্রুব্যুহ ভেদ করে ৬২৪৫,

৬২৪৫। যে গতিতে অশ্ব শত্রু বুহ্যের মধ্যে ঢুকে পড়ে তা এখানে রূপক বর্ণনাহিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মন্দ ও পাপের সম্মিলিত শক্তি যতই চেষ্টা করুক - তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদের দ্রুত ধ্বংসের কারণ হবে। আমাদের চারিপার্শ্বের প্রতিদিনের জীবনে এরূপ বহু উদাহরণ প্রতিদিন ঘটে থাকে। অপরাধীরা অপরাধের চরম শিখরে পৌঁছানোর পরে তাদের নিজস্ব কর্মেই তারা নিজেরা ধ্বংস হয়।

৬। সত্যিই মানুষ তার প্রভুর নিকট অকৃতজ্ঞ ; ৬২৪৬

৬২৪৬। যে সব ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথে চলেন এবং অসত্য, অন্যায় ও পাপের বিরুদ্ধে বিরামহীন ভাবে সংগ্রাম করেন তাদের বিপরীত বৈষম্য সে সব মানুষ যারা তাদের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র নিকট অকৃতজ্ঞ। যে আল্লাহ্‌ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে প্রতিপালন করেন এবং তার কল্যাণের জন্য অনুগ্রহ দান করেন - তাঁকেই সে ভুলে যায়। তাদের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় তাদের চিন্তায়, কথায় এবং কাজে। তারা হয় আল্লাহকে সম্পূর্ণ ভুলে থাকে, নয়তো আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের অপব্যবহার দ্বারা অনুগ্রহকে অস্বীকার করে অথবা আল্লাহ্‌র সৃষ্টির প্রতি অত্যাচার ও অবিচার দ্বারা তাদের আল্লাহ্‌র প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। এসব লোক যুদ্ধক্ষেত্রের অশ্বের থেকেও অধম, কারণ অশ্ব এই জীবন বিপন্ন করে প্রভুর আদেশ পালন করে থাকে।

৭। এ বিষয়ে সে [তার কাজের ] সাক্ষ্য বহন করে ; ৬২৪৭

৬২৪৭। মানুষ তার কার্যবলীর দ্বারা প্রমাণ করে যে সে আল্লাহ্‌র প্রতি কৃত অঙ্গীকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

৮। এবং তার ঐশ্বর্যের আকাঙ্খা অত্যন্ত প্রবল ৬২৪৮

৬২৪৮। মানুষের ধন-সম্পত্তির প্রতি আসক্তি প্রবল। হায়রে ! নির্বোধ মানুষ, অস্থায়ী পার্থিব সম্পদের জন্য সে আল্লাহ্‌র শুভাশীষের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। ধন -সম্পদের আসক্তি মানুষকে পার্থিব দুনিয়ার উর্দ্ধে চিন্তা করার সুযোগ দান করে না। আধ্যাত্মিক জগতের দ্বার তার জন্য অবরুদ্ধ থেকে যায়। সে হয় অকৃতজ্ঞ

৯। সে কি তবে জানে না, যা কিছু কবরে আছে তখন তা উঠানো হবে ৬২৪৯

১০। এবং মানুষের অন্তরে যা [ লুক্কায়িত ] আছে তা প্রকাশিত হবে, -

৬২৪৯। "কবরে যাহা আছে " - কবর হচ্ছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার প্রতীক। মৃতদেহ, গোপন ষড়যন্ত্র, মন্দ চিন্তা এবং কল্পনা, যা দীর্ঘকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে; শেষের সে দিনে কোন কিছুই আর লুকিয়ে রাখা যাবে না। সব কিছুই বিচারের জন্য আল্লাহ্‌র সম্মুখীন করা হবে। মানুষ বহু কিছুই ভুলে যায় - সেদিন সব ভুলে যাওয়া কথা ও কাজ সবই সুস্পষ্ট রূপে ধরা পড়বে।

১১। সেদিন উহাদের কি ঘটবে, তাদের প্রভু সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত, ৬২৫০

৬২৫০। আল্লাহ্‌র জ্ঞান সব কিছুকেই পরিবেষ্টিত করে আছে। মানুষের অন্তরের সকল গোপনীয়তা, ভুলে যাওয়া সকল কথা ও কাজ সব কিছু আল্লাহ্‌র নিকট আমলনামায় রক্ষিত আছে। এ সব কিছুই বিচার দিবসে প্রকাশ করা হবে।