Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৭২ জন
আজকের পাঠক ১০৬ জন
সর্বমোট পাঠক ৭১৩৭৯৩ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৮৯৮৪০ বার
+ - R Print

সূরা নাযি'য়াত


সূরা নাযি'য়াত অথবা যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে -৭৯

৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা যার অবতীর্ণকাল শেষ সূরাটির সমসাময়িক। এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে অহংকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার দিবসের ধারণা এবং অহংকারীদের পতন। এ বিষয়ে ফেরাউনের উপমা উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তির মূল মাধ্যম হিসেবে। তার উক্তি ছিলো, " আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।" [ ৭৯ : ২৫ ]


সূরা নাযি'য়াত অথবা যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে -৭৯

৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

১। [ ফেরেশতাদের ] শপথ ৫৯১৬, যারা [ পাপীদের আত্মাকে ] নিমর্মভাবে উৎপাটন করে। ৫৯১৭

৫৯১৬। এই সূরার আরম্ভ পূর্ববর্তী সূরার [ ৭৭নং ] আরম্ভের সাথে তুলনা করা যায়। এই সূরাদ্বয়ের প্রারম্ভ অনুবাদ করা যে কোন অনুবাদকের জন্য এক দূরূহ কার্য। শপথের মাধ্যমে যে ভাবকে প্রকাশ করা হয়েছে তা মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরে। সুতারাং তা অনুবাদের বা তফসীরের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা এক অসাধ্য ব্যাপার।

আয়াত [ ১ -৫ ] পর্যন্ত ফেরেশতাগণের পাঁচটি বিশেষণ বর্ণিত হয়েছে। সূরার শুরুতে ফেরেশতাগণের কতিপয় গুণ ও অবস্থা বর্ণনা করে তাদের শপথ করা হয়েছে। শপথের জওয়াব বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে ৬ নং ও পরবর্তী আয়াত সমূহে।

৫৯১৭। এই পাঁচটি আয়াতগুলিতে যে পাঁচটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্বন্ধে যথেষ্ট মতদ্বৈত আছে। মওলানা ইউসুফ আলীর মতে এর দ্বারা সেই সব ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে যারা মানুষের জন্য আল্লাহ্‌র দয়া, ক্ষমতা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং কেয়ামতের বার্তা বহন করে আনেন। কেয়ামত হচ্ছে ধ্রুব সত্য যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। ফেরেশতাগণ এখনও সারা বিশ্বের কাজকর্ম ও শৃঙ্খলা বিধানে নিয়োজিত, কেয়ামত দিবসেও যখন এই বস্তুনিষ্ঠ পৃথিবী অপসৃত হয়ে যাবে এবং অসাধারণ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখনও ফেরেশতারাই যাবতীয় কার্যনির্বাহ করবে। এ সর্ম্পকের কারণে সূরায় তাদের শপথ করা হয়েছে। ফেরেশতাদের যে পাঁচটি বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে মৃত্যু ও দেহ থেকে আত্মা বের করার বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সূরার প্রথম আয়াতে প্রথমতঃ বলা হয়েছে পাপী ও কাফেরদের আত্মা সম্পর্কে। পাপী ও কাফেরদের আত্মা পার্থিব জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত থাকবে যে তারা কিছুতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে চাইবে না। আত্মা মৃত্যুর মাধ্যমে এই মরদেহ ত্যাগে থাকবে প্রচন্ড অনিচ্ছুক। কিন্তু তাদের সেই অনিচ্ছার কোনও মূল্যই দেয়া হবে না। তাদের আত্মাকে দেহের বাঁধন থেকে সমূলে উৎপাটন করা হবে পরলোকে নেয়ার জন্য। তবে কেন তারা পুণরুত্থান ও বিচার দিবসকে অস্বীকার করে ?

২। যারা [ পূণ্যাত্মাদের আত্মাকে ] মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করে দেয় ৫৯১৮

৫৯১৮। দ্বিতীয়তঃ দুষ্ট ও পাপীদের আত্মার পরিণতির পটভূমিতে মুত্তাকীদের আত্মার অবস্থানকে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যুর সময়ে মুত্তাকীদের আত্মাকে খুব সহজে, শান্ত ও মৃদুভাবে পরলোকের জন্য দেহ থেকে বের করে নেয়া হবে। অবশ্য যারা মুত্তাকী তারা মৃত্যুর বহু পূর্বেই মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন। ফলে তারা পার্থিব জগতের মোহ থেকে আত্মাকে মুক্ত করে আল্লাহ্‌র করুণার কাছে আত্মসমর্পন করেন। প্রকৃত পক্ষে মৃত্যু তাদের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। কারণ মৃত্যু তাদের আত্মাকে পৃথিবীর স্থুলতা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। যে মুক্তি ছিলো পার্থিব জীবনে তাদের জন্য একান্ত কাম্য। কারণ তাঁরা সর্বদা বিচার দিবসকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে এসেছেন পার্থিব জীবনে।

৩। শপথ তাদের যারা [ হাওয়ায় ] সাঁতার কাটে ৫৯১৯

৪। এবং যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়,

৫। অতঃপর যারা [ তাদের প্রভুর আদেশে ] সকল কাজের তত্বাবধান করে,

৫৯১৯। আল্লাহ্‌র হুকুমে ফেরেশতাদের সর্বদা আল্লাহ্‌র করুণা, দয়া, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের সংবাদ পৃথিবীতে দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করে থাকেন। তাদের গতির এই দ্রুততাকেই এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে - "যারা হাওয়ায় সাতার কাটে।"

আয়াত [ ৩- ৫ ] এই তিনটি আয়াতে ফেরেশতাদের আরও তিনটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।

৩) তৃতীয়ত : Sabhan আভিধানিক অর্থ সন্তরণ করা। এখানে উদ্দেশ্য দ্রুতবেগে চলা। দেখুন সূরা [ ২১ : ৩৩ ] আয়াত যেখানে এই ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করা হয়েছে নভোমন্ডলের গ্রহ-নক্ষত্রের সম্পর্কে যেখানে বলা হয়েছে, " সবাই আপন আপন কক্ষ পথে সন্তরণ করে। "

৪) ফেরেশতারা তাদের কাজের দ্রুততায় একে অপরকে অতিক্রম করে।

৫) এ ভাবেই তারা তাদের প্রতিপালকের আজ্ঞা নির্বাহ করে থাকে।

৬। একদিন, যা কিছু প্রকম্পিত হতে পারে,তা প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে ৫৯২০,

৫৯২০। ফেরেশতাদের অপূর্ব কার্যপ্রণালীর বৈশিষ্ট্য [ ১ - ৫ ] আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এবারে তাঁদের কাজের শেষ পরিণতি বা সিদ্ধান্তকে তুলে ধরা হয়েছে। এ কথা ধ্রুব সত্য যে, একদিন প্রচন্ড প্রকম্পনের মধ্য দিয়ে এই চেনা-জানা পৃথিবীর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সে অনুভূতি হবে প্রচন্ড ভূমিকম্পের অনুভূতি যা পৃথিবীর রূপরেখাকে মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। এই মুছে ফেলার প্রাথমিক পর্যায়ে পৃথিবী প্রচন্তভাবে কেঁপে উঠবে, সমস্ত কিছু ধ্বংস হওয়ার পরেও শুধুমাত্র সেই সর্বশক্তিমানের, স্বর্গীয় সত্ত্বা বিরাজ করবে। যার উল্লেখ সূরা [ ৫৫ : ২৭] আয়াতে এভাবে করা হয়েছে, " কিন্তু চিরস্থায়ী হবে তোমার প্রভুর সত্ত্বা।"

৭। উহাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী সিংগাধ্বনি [বারে বারে কম্পন দ্বারা ] ৫৯২১

৫৯২১। দ্বিতীয় শিঙ্গাধ্বনি হবে নূতন পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বাভাষ। নূতন পৃথিবীর সৃষ্টির প্রাক্কালে পৃথিবী বারে বারে প্রচন্ড প্রকম্পনের সম্মুখীন হবে।

৮। সেদিন কত হৃদয় উদ্বিগ্ন হবে, ৫৯২২

৫৯২২। সন্ত্রস্ত বা আন্দোলিত হওয়া। মুত্তাকী ও পাপী সকলের হৃদয় সেদিন আন্দোলিত হতে থাকবে। যারা মুত্তাকী, তারা আশায় আন্দোলিত হবে তাদের প্রতিপালকের প্রতিজ্ঞা পূরণের সম্ভবনার সূত্রপাতে। আবার যারা পাপী ও যারা আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করতো তাদের হৃদয় ভয়ে আন্দোলিত হতে থাকবে কারণ ন্যায় বিচারে তাদের কর্মের পরিণাম অনুধাবন করার মাধ্যমে।

৯। [তাদের ] চক্ষু নত হবে ৫৯২৩

৫৯২৩। সকল দৃষ্টিই সেদিন, " ভীতি বিহ্বলতায় নত হবে।" যারা মুত্তাকী তাদের দৃষ্টি নত হবে বিনয়ে, আবেগে। আর যারা প্রত্যাখানকারী তাদের দৃষ্টি নত হবে লজ্জ্বা, দুঃখ ও অপমানের ভয়ে। কারণ পার্থিব জীবনের অবাধ্যতা, উদ্ধতপনার পরিণাম তারা বিশেষ ভাবে সেদিন অনুধাবন করবে।

১০। [ বর্তমানে ] তারা বলে, " সে কি ! আমরা কি সত্যিই [ আমাদের ] পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব ? " ৫৯২৪

১১। " সে কি ! যখন আমরা গলিত পচা হাড় হয়ে যাব [ তখনও ] ? "

১২। তারা বলে, " তাই-ই যদি হয়, তবে তো ইহা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। "

৫৯২৪। পৃথিবীর জীবনে সত্য প্রত্যাখানকারীরা থাকে অবাধ্য, উদ্ধত এবং বিদ্রূপকারী। তাদেরই বিদ্রূপের ভাষা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মনোভাব এরূপ, " হ্যাঁ, নিশ্চয়ই মৃত্যুই সকল কিছুর শেষ। যখন আমরা মুত্যুমুখে পতিত হব এবং কবরে নীত হব, সেখান থেকে কিভাবে আবার জীবিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব ? " তারা আরও বলে যে, " যদি সত্যিই তাই ঘটে, তবে তো আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। কারণ আমাদের অস্থি,চর্ম-মজ্জা সব কিছুই পচনশীল অবস্থায় থাকবে।" তারা এইরূপ উক্তি করে অবিশ্বাসের কারণে বিদ্রূপাত্মক ভাবে। তাদের বিদ্রূপে কোন কিছুরই পরিবর্তন ঘটবে না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শেষ বিচারে অবশ্যই সকলকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেদিন তারা প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং দোযখই হবে তাদের শেষ পরিণতি।

১৩। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে,তা হবে একটি মাত্র আওয়াজ ৫৯২৫,

৫৯২৫। বিচার দিবস শুধুমাত্র একটি বিকট শব্দের অপেক্ষা মাত্র যার উল্লেখ আছে, সূরা [ ৩৭ : ১ ৯ ] এবং সূরা [ ৩৬ : ২৯, ৪৯ ] আয়াতে। এই বিকট শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, হঠাৎ করেই পাপীদের ইহজীবনের লীলা খেলা শেষ করে দেয়া হবে এবং পরলোকের জীবনে নীত করা হবে যেখানে তাদের বিচার করা হবে। দেখুন সূরা [ ৩৬ : ৫৩ ] আয়াত যেখানে শেষ বিচারের নীত হওয়ার উল্লেখ আছে।

১৪। যখন তারা [ বিচারের ] জন্য থাকবে [ পূর্ণ ] সচেতনতায় ৫৯২৬

৫৯২৬। মৃত্যুর সময় থেকে পরবর্তী অবস্থাকে ব্যক্তির জন্য ছোট কেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা যায়। দেখুন সূরা [ ৭৮ : ৪০ ] আয়াতের টিকা ৫৯১৪ ও সূরা [ ৭৫ : ২২ ] আয়াতের টিকা ৫৮২২ এবং সূরা [ ৭ : ৩৭] আয়াত। যখন প্রকৃত কেয়ামত সংঘটিত হবে তখন পুরানো চেনাজানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি হবে এবং সকলের পুনরুত্থান ঘটবে। মৃত্যু পরবর্তী ছোট কেয়ামত বা বিচারকে কবর আযাব বলা হয়।

১৫। তোমার নিকট কি মুসার কাহিনী পৌঁছেছে ? ৫৯২৭

৫৯২৭। হযরত মুসার কাহিনী সূরা [ ২০ : ৯- ৭৬ ] আয়াতে বিশদ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতে সংক্ষেপে যে উপদেশ দান করা হয়েছে তা নিম্নরূপ :

১) আল্লাহ্‌ সর্বোচ্চ প্রত্যাখানকারী, নিন্দাকারী, এমনকি ফেরাউনের ন্যায় প্রত্যাখানকারীর জন্যও আল্লাহ্‌র করুণা ও ক্ষমার দরজা অবারিত। হযরত মুসার মাধ্যমে ফেরাউনকে আল্লাহ্‌র করুণার বার্তা প্রেরণ করা হয়।

২) ফেরাউনের প্রত্যাখানের ফলে এই পৃথিবীতেই তার পতন ঘটে; ঠিক সেরূপ যারা আল্লাহ্‌র আইনকে প্রত্যাখান করে তাদেরও পতনও এই পৃথিবীতেই ঘটতে পারে।

৩) পাপীদের লাঞ্ছনার পরিপূর্ণতা লাভ করবে পরলোকের জীবনে, শেষ বিচারের পরে।

১৬। স্মরণ কর, তোমার প্রভু তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন, ৫৯২৮

৫৯২৮। দেখুন [ ২০ : ১২ ] আয়াত

১৭। " ফেরাউনের নিকট যাও, নিশ্চয়ই সে সকল সীমা অতিক্রম করেছে, ৫৯২৯।

৫৯২৯। দেখুন [ ২০ : ২৪ ] আয়াত

১৮। " এবং তাকে বল, 'তুমি কি [পাপ থেকে ] পরিশুদ্ধ হতে চাও ? -

১৯। " আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ প্রদর্শন করি যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর? ৫৯৩০ "

৫৯৩০। এই বাক্যটি হযরত মুসাকে বলতে বলা হয়েছিলো ফেরাউনকে। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী নৃপতি ক্ষমতা ও সম্পদের দম্ভে আচ্ছন্ন হয়ে আল্লাহকে ভুলে ছিলো। আল্লাহ্‌ তাকেও পথের নিদর্শন দেয়ার জন্য হযরত মুসাকে প্রেরণ করেন এবং তাঁর করুণা, রহমত অর্পন করেন।

২০। অতঃপর সে [মুসা ] তাকে মহা নিদর্শন প্রদর্শন করলো ৫৯৩১।

৫৯৩১। মহা নিদর্শন দ্বারা কোন নিদর্শনকে বুঝানো হয়েছে ? কিছু সংখ্যক তফসীরকারের মতে তা হবে, " উজ্জ্বল সাদা হাত " দেখুন [ ২০ : ২২ - ২৩ ] আয়াতের টিকা ২৫৫০। আবার অনেকে বলেন এটা হবে হযরত মুসার লাঠি যা সাপে রূপান্তরিত হয়ে নড়া-চড়া করতো। দেখুন [২০ : ২০] আয়াতের টিকা ২৫৪৯। এগুলি ছিলো সূরা [ ২০: ২৩ ] আয়াতে উল্লেখিত নিদর্শন সমূহের অন্যতম। সূরা [ ১৭ : ১০১] আয়াতে হযরত মুসার নয়টি মোজেজার উল্লেখ আছে। এই নয়টি মোজেজার বিশদ বিবরণ আছে সূরা [ ৭ : ১৩৩ ] আয়াতের টিকাতে ১০৯১। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে নিদর্শন বা মোজেজা যাই-ই হোক না কেন, ফেরাউনের ন্যায় অবাধ্য উদ্ধত অহংকারীরা তা গ্রহণ করবে না যা বলা হয়েছে [ ৭: ১৩৩ ] আয়াতে এভাবে, " তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকলো। বস্তুতঃ তারা ছিলো অপরাধপ্রবণ।"

২১। কিন্তু ফেরাউন প্রত্যাখান করলো [পথ নির্দ্দেশ ] এবং অমান্য করলো ;

২২। উপরন্তু,সে পিছনে ফিরে গেলো, [আল্লাহ্‌র ] বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রামের জন্য

২৩। অতঃপর সে [ তার লোকজনকে ] সমবেত করেছিলো, এবং ঘোষণা করেছিলো,

২৪। এবং বলেছিলো, " আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।"

২৫। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাকে পরকালে ও ইহকালে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করলেন ৫৯৩২

৫৯৩২। দেখুন [ ২০ : ৭৮- ৭৯ ] আয়াত এবং [ ৭ : ১৩ ৫ - ১৩৭ ]।

২৬। অবশ্যই এতে রয়েছে শিক্ষণীয় সতর্কবাণী তার জন্য যে [আল্লাহকে ] ভয় করে ৫৯৩৩।

৫৯৩৩। দেখুন [ ২৪ : ৪৪ ]।

রুকু - ২

২৭। কি ! তোমাদের সৃষ্টি করা বেশী কঠিন না [ উপরের ] আকাশ ? ৫৯৩৪ [আল্লাহ্‌ ] তা সৃষ্টি করেছেন।

৫৯৩৪। নগন্য মানুষ উদ্ধত অহংকারে তাঁর ক্ষুদ্রত্ব ভুলে যায়। অজ্ঞতা ও অবিমৃষ্যকারীতার জন্য সে ভুলে যায় যে, আল্লাহ্‌র নিকট সে ইহকালের কাজের জবাবদিহিদার জন্য আবদ্ধ। এই আয়াত সমূহে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি বিশ্বব্রহ্মান্ডের বিশালত্বের সৃষ্টির তুলনায় মানুষ একটি ক্ষুদ্র বিন্দুর ন্যায় নগন্য। এই ক্ষুদ্র ও অসহায় মানুষ, সৃষ্টির সকল কিছুর উপরে যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পেরেছে, তা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র করুণাতেই সম্ভব হয়েছে। মানুষের বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা সমূহ যেমন বুদ্ধিমত্তা,মেধা, সৃজনক্ষমতা প্রতিভা ইত্যাদি যার দ্বারা সে বিশ্বকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে, তা আল্লাহ্‌রই বিশেষ অনুগ্রহ, মানুষের জন্য। মানুষকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টির সকল বস্তুর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তার প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন [২ : ৩০ - ৩৯ ]। পরবর্তী আয়াত সমূহ লক্ষ্য করুন। যেখানে সৃষ্টির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন আকাশ ও পৃথিবীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমূহ তুলে ধরা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এ সমস্তকেই মানুষের অধীন করে দেয়া হয়েছে।

২৮। তিনি উহার ছাদকে সুউচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন ৫৯৩৫।

৫৯৩৫। দেখুন [ ২ : ২৯ ] আয়াত। বিশ্ব প্রকৃতি সৃষ্টির বর্ণনায় এই আয়াতে উম্মুক্ত অসীম নীল আকাশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নিঃসীম নীল আকাশের অসংখ্য তারকারাজি, গ্রহ-নক্ষত্র, পৃথিবী ও সূর্য -চন্দ্র প্রত্যেকেই স্রষ্টার প্রণীত আকাশের আইন মেনে চলে কেউ একচুল পরিমাণও স্বর্গীয় আইনের অমান্য করে না। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে নির্দ্দিষ্ট গতিতে পরস্পরের মাঝে সংঘর্ষ না ঘটিয়ে অবিরাম গতিতে নির্দ্দিষ্ট কক্ষপথকে অতিক্রম করে থাকে, যার ফলে পৃথিবীর আবহাওয়া ও তাপমন্ডলকে লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে থেকে সূর্যের আলো প্রভাবিত করে থাকে। যার ফলে পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তন ঘটে জোয়ার ভাটা হয় এবং পৃথিবী ফুল ও ফলে ভরে ওঠে। এ সবই নির্দ্দেশ করে সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ্‌র জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিপূর্ণতার স্বাক্ষর। এ সব নিদর্শন দেখার পরেও কি কেউ বিশ্বস্রষ্টার ক্ষমতাকে অস্বীকার করতে পারে। অস্বীকার করতে পারে, " সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি " - যা স্রষ্টা তাঁকে ' প্রতিনিধি ' হিসেবে দান করেছেন, তার জবাবদিহিতা ? সে কি অস্বীকার করতে পারে, " শেষ বিচারের দিন" বা ভালোকে মন্দ থেকে আলাদা করার দিনকে?

২৯। এর রাত্রিকে তিনি অন্ধকারে বিভূষিত করেন এবং এর [ আলোকে ] প্রকাশ করেছেন দীপ্তিময় করে। ৫৯৩৬

৫৯৩৬। রাত্রি ও দিন প্রত্যেকেই স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। রাত্রি ও দিনের প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব সৌন্দর্য এবং মানুষের জীবনে প্রতিটিরই প্রয়োজনীয়তা আছে। সে কারণে কোরাণে বহুবার রাত্রি ও দিনকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাত্রি হচ্ছে অন্ধকারের প্রতীক - তবু এই অন্ধকারচ্ছন্ন রাত্রি আলোকিত হয় চাঁদের আলোতে এবং রাত্রির পৃথিবীকে করে তোলে আলো আঁধারিত আচ্ছাদিত কমনীয় ও মোহনীয়। আবার চন্দ্রহীন অন্ধকার রাতের আকাশ তারার মেলাতে ঝলমল করে। রাতের আকাশের নক্ষত্রবীথির সৌন্দর্য যেরূপ মনোমুগ্ধকর, দিনের আকাশের সূর্যের আলোও সেরূপ উজ্জ্বল সৌন্দর্যমন্ডিত। মনে রাখতে হবে অসংখ্য তারকারাজির ন্যায় সূর্যও একটি তারকা বই আর কিছু নয়। এ ভাবেই স্রষ্টা রাত্রিকে আলোর বিভিন্ন মাত্রাতে আলোকিত করে থাকেন।

৩০। উপরন্তু, তিনি ভূমিকে করেছেন বিস্তৃত ৫৯৩৭

৫৯৩৭। দেখুন [ ৫১ : ১১ ] আয়াতের টিকা ৪৪৭৫।

৩১। তিনি তা থেকে বের করেন আর্দ্রতা ও এর তৃণভূমি ; ৫৯৩৮

৫৯৩৮। ভূগর্ভস্থ পানি যেমন, ঝরণা, কূপ, প্রস্রবণ, নদী ইত্যাদির পানি রূপে প্রবাহিত আবার উত্তর গোলার্ধে হিমাবহের যে পানি এবং নদীর স্রোতধারা, তার সৃষ্টি হয় ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য অনুযায়ী। সুউচ্চ পর্বতসৃঙ্গে হিমাবহের সৃষ্টি হয়, এবং নদী প্রবাহিত হয় হিমাবহ গলিত পানির ধারা নিয়ে উচ্চ থেকে নিম্ন ভূমিতে। পৃথিবীকে জলসিঞ্চন দ্বারা শস্য শ্যামল করে রাখার জন্য স্রষ্টা ভূমিকে করেছেন উচ্চ ও নীচু। যেহেতু পানির গতি সর্বদা নিম্নাভিমূখী সে কারণে নদী উচ্চ স্থান থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়। আর এই নদীর কারণেই ভূপৃষ্ঠ হয় উর্বর এবং মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। উর্বর শষ্য প্রান্তর মানুষকে দেয় খাদ্য শষ্য, ফল-মূল, শাক-শব্জি। গৃহপালিত পশুকে দেয় উপযোগী চারণভূমি। "পানি চক্রের " মাধ্যমে স্রষ্টা এক অপূর্ব কৌশলে সমগ্র পৃথিবীর ভূমিকে জলসিঞ্চন করে থাকেন। দেখুন [২৫ : ৪৯] আয়াতের টিকা ৩১০৬ এবং [ ২৫ : ৫৩ ] আয়াতের টিকা ৩১১১।

৩২। এবং পর্বতসমূহকে করেছেন দৃঢ়ভাবে প্রোথিত ; ৫৯৩৯

৫৯৩৯। দেখুন [ ১৬ : ১৫ ] আয়াতের টিকা ২০৩৮। পর্বত হচ্ছে পৃথিবীর পানির আঁধার। এখান থেকে পানি ধীরে ধীরে পরিমাণমত নদী বাহিত হয়ে পৃথিবীকে সিঞ্চিত করে। এ ভাবেই "দৃঢ়ভাবে প্রোথিত" পর্বত মানুষ ও প্রাণীর জীবনের মূল নির্যাস পানির ধারক বাহক ও রক্ষকের ভূমিকা পালন করে। ভূঅভ্যন্তরস্থ চলমান শিলারাশিকে সঠিক ভাবে রাখার জন্য পর্বতকে সৃষ্টি করা হয়েছে যেনো ভূপৃষ্ঠ কম্পন থেকে রক্ষা পায়।

৩৩। তোমাদের এবং তোমাদের পশুসম্পদের ব্যবহার ও সুবিধার জন্য ৫৯৪০।

৫৯৪০। এই আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াত ৩০, ৩১, ও ৩২ নং এর ধারাবাহিকতা। এই বিশাল বিশ্বভূবনের সব কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের সুবিধার জন্য এবং মানুষের উপরে নির্ভরশীল প্রাণীকূলের জন্য। আল্লাহ্‌র দেয় অপূর্ব নেয়ামত সমূহ এবং এসব নেয়ামত ব্যবহার নির্ভর করে মানুষের বুদ্ধিমত্তা,জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপরে ; যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাও আল্লাহ্‌র বিশেষ দান।

৩৪। সুতারাং যখন সেই ভীষণ বিপর্যস্তকারী [ ঘটনা ] আসবে, ৫৯৪১

৫৯৪১। বিচার দিবস, যেদিন ভালোকে মন্দ থেকে আলাদা করা হবে। প্রতিটি কর্মের প্রকৃত সত্যকে প্রকাশ করা হবে। ভীষণ বিপর্যয়কারী ঘটনা দ্বারা বিচার দিবসকে বুঝানো হয়েছে।

৩৫। সেদিন,মানুষ যার জন্য পূর্বে সংগ্রাম করেছে, সব স্মরণ করতে পারবে, ৫৯৪২

৫৯৪২। পৃথিবীর বিচার সভায় ভালো বা মন্দ কর্মকে বিচার করা হয়, কিন্তু কর্মের নিয়তকে ধর্তব্যের মধ্যে আনা হয় না। কিন্তু আল্লাহ্‌র বিচার সভায় মানুষের প্রতিটি কর্ম এবং কর্মের নিয়তকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করা হবে। যার জন্য সে চেষ্টা করেছে এই চেষ্টা শারীরিক বা মানসিক যাই-ই হোক না কেন। মানুষের স্বভাব ধর্ম হচ্ছে মানুষ তার কুকর্ম ভুলে যেতে ভালোবাসে। কিন্তু শেষ বিচার সভায় মানুষ তার সমগ্র জীবনের খুঁটিনাটি স্মরণ করতে সক্ষম হবে। শুধু যে স্মরণ করতেই সক্ষম হবে তাই-ই নয়, জাহান্নামকেও তার সম্মুখে প্রদর্শিত করা হবে। শুধু যে তার সম্মুখেই জাহান্নামকে উম্মুক্ত করা হবে তা নয়, সকল দর্শক বৃন্দও তা দেখতে পাবে।

৩৬। এবং [ সকলের ] দর্শনের জন্য জাহান্নামের আগুনকে প্রকাশ করা হবে। ৫৯৪৩

৫৯৪৩। দেখুন সূরা [ ২৬ : ৯১ ] আয়াত।

৩৭। অতঃপর যারা সকল সীমালংঘন করেছিলো,

৩৮। এবং পৃথিবীর এই জীবনকে অধিকতর পছন্দ করেছিলো, ৫৯৪৪

৩৯। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম।

৫৯৪৪। যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে এবং একগুঁয়ে ভাবে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং "সীমালংঘন করে " - তাদের জন্য নির্ধারিত আছে শাস্তি। সীমালংঘনকারীরা পার্থিব জীবনকে ভালোবাসে। এই জীবনের ভোগ বিলাস তাদের পরলোকের জীবনকে ভুলিয়ে দেয় এবং তাদের করে তোলে উদ্ধত, অহংকারী ও গর্বিত। অপরপক্ষে, যারা পার্থিব জীবনের অপেক্ষা পরলোকের জীবনকে অধিক গুরুত্ব দান করে থাকেন,তাঁরা তাদের মানবিক দুর্বলতা ও দোষত্রুটির জন্য, অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র ক্ষমা প্রার্থী হয়। ফলে তাদের দোষত্রুটি পরিশুদ্ধ হয়ে তাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী করে। দেখুন আয়াত [ ১০১ : ৬-৯]। যার ভালো কাজের পাল্লা ভারী সেই তো পরলোকে মুক্তি লাভ করবে।

৪০। এবং যারা স্বীয় প্রভুর সম্মুখে [বিচারের ] ভয় করে ৫৯৪৫ ; এবং রীপুর আকাঙ্খা থেকে তাদের আত্মাকে সংযত রাখে,

৪১। তাদের আবাস হবে বেহেশত

৫৯৪৫। এখানে সমান্তরাল ভাবে দুই শ্রেণীর লোকের তুলনা করা হয়েছে। এক শ্রেণীর লোক আছে যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহ্‌র আইন অমান্য করে এদের বৈশিষ্ট্য হবে,তারা পার্থিব জীবনকে এবং এর ভোগ বিলাসকে অতিরিক্তি ভালোবাসে। এদের জন্যই পরলোকে রয়েছে মহাশাস্তি। অপরপক্ষে অন্য শ্রেণীর লোকেরা পরলোকে প্রতিপালকের বিচারের ভয় করে এবং বিনয়াবনত ভাবে আল্লাহ্‌র ক্ষমাপ্রার্থী হয় এবং নিজেকে মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে এবং প্রবৃত্তি বা রীপুসমূহকে সংযত করে। এদের জন্য পরলোকে আছে বেহেশতের বাগান। দেখুন উপরের টিকা।

৪২। তারা তোমাকে কেয়ামত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, "কখন আসবে সেই নির্দ্দিষ্ট সময় ? " ৫৯৪৬

৫৯৪৬। দেখুন [ ৭ : ১৮৭ ] আয়াত এবং টিকা ১১৫৯। কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট। যদি মানুষ পূর্বে উহা জ্ঞাত হতো তবে তার ভার তাদের জন্য হতো অসহ্য।

৪৩। এর ঘোষণার সাথে তোমার কি সম্পর্ক ?

৪৪। তোমার প্রভুর নিকটই আছে [ কেয়ামতের জ্ঞানের ] শেষ সীমা ৫৯৪৭

৫৯৪৭। আমাদের সময় সম্বন্ধে যে ধারণা তা কোনও চরম সংখ্যা নয়। সময়ের ধারণা আপেক্ষিক। পরলোকে যে নূতন পৃথিবীর অভ্যূত্থান ঘটবে সেখানে সময় হবে স্থির বা সীমাহীন। সেই নূতন পৃথিবীতে বা হাশরের ময়দানে আমাদের বিচার হবে। মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন হবেন আমাদের বিচারক। এ সম্বন্ধে জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্‌র। আল্লাহ্‌, যিনি সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী, ন্যায় বিচারক এবং করুণাময় [ ১১ : ১০৭ -১০৮ ]। কিন্তু যদি আমরা সূরা [ ৭৮ : ৪০ ] আয়াতের টিকা ৫৯১৪ এর আলোচনা বিবেচনা করি,তবে কেয়ামত খুব দূরে নয়। কারণ সময়ের আপেক্ষিকতায় তা নিতান্তই নিকটে মনে হবে।

৪৫। যে উহার ভয় রাখে তুমি তো কেবল তাহার সতর্ককারী। ৫৯৪৮

৫৯৪৮। শেষ বিচার ও পরলোকের বিপদ সম্বন্ধে তাকেই সাবধান করা সম্ভব যে আল্লাহ্‌ ও পরলোকের জবাবদিহিতার বিশ্বাসী। এ সব লোক সতর্কবাণী শোনামাত্র অনুতপ্ত হয়। এ সব লোকদের সাহায্য করার জন্যই আল্লাহ্‌ রসুলদের যুগে যুগে প্রেরণ করে থাকেন।

৪৬। যে দিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে সে দিন তাদের মনে হবে যেনো পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে। ৫৯৪৯

৫৯৪৯। দেখুন [ ১০ : ৪৫ ] আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে, " যেনো তারা অবস্থান করে দিনের একদন্ড ব্যতীত। " এই আয়াতে উপমাটি বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে, " যেনো উহারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।" এই উপমাটিকে এ ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। মৃত্যু হচ্ছে ঘুমেরই অন্যরূপ। ঘুমকে জীবনের সন্ধ্যা হিসেবে কল্পনা করলে মনে হবে জীবন সন্ধ্যায় কালরাত্রির ঘুম তাকে আচ্ছন্ন করে। ঘুমের মাঝে আমরা জানি না কি ভাবে সময় অতিবাহিত হয়। ঠিক সেইরূপ মৃত্যুর মাঝেও আমরা জানি না কিভাবে সময় অতিবাহিত হয়। পুণরুত্থানের মাধ্যমে আমরা যখন জেগে যাব আমরা সময়ের ধারণা বুঝতে পারবো না। আমরা কি একমূহুর্ত না ঘণ্টা না বহু সময় অতিক্রান্ত করেছি। তবে এটা আমাদের চেতনাতে আসবে যে সকাল হয়েছে - কারণ আমাদের চেতনাতে সকল কিছুই তখন ধরা দেবে, ঠিক রাত্রির ঘুম শেষ প্রভাতে,সতেজ চেতনাতে যেমন সব কিছু তীব্র তীক্ষ্ণ ভাবে অনুভূত হয়।