+
-
R
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : ক্রম অনুযায়ী এই সূরাটি পূর্বোক্ত সূরার সমসাময়িক। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই সূরার বিষয়ের সাথে ৮১ নং ও ৮২ নং সূরার সামঞ্জস্য আছে। এই সূরাগুলির সাথে বর্তমান সূরাটির তুলনা করা যায়।
বর্তমান সূরাটি আরম্ভ করা হয়েছে কতিপয় মহাবিপর্যয়কারী ঘটনার বিবরণের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর বর্তমান রূপ বদলে যাবে এবং আল্লাহ্র ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতারাং নূতন পৃথিবী যা হবে অনন্তকাল স্থায়ী, সেই পৃথিবীর উপযোগী মুল্যবোধ সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রত্যেক মানুষের চেষ্টা করা উচিত।
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
৬০৩১। চেনা জানা এই পৃথিবীর ধ্বংসের অর্থ হচ্ছে, নূতন ও স্থায়ী পৃথিবীর সৃষ্টির সূচনা। আর সেই সূচনা সংঘটিত হবে দুভাবে যার বিন্দুমাত্র ধারণা আমাদের জ্ঞান বা বুদ্ধির অগম্য। সূরা নং ৮২ ও ৮১ এর প্রারম্ভে পৃথিবী ধ্বংসের বিভিন্ন চিহ্নসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে এই সূরাতে দুটি চিহ্নের উল্লেখ করা হয়েছে :
১) আকাশ বিদির্ণ হয়ে যাবে এবং তার সব গুপ্ত রহস্য উদ্ভাসিত করে দেবে।
২) পৃথিবী আর গোল থাকবে না ; তা সম্প্রসারিত করে সমতলভূমিতে পরিণত করা হবে। পৃথিবীও তার অভ্যন্তরের সকল গুপ্ত রহস্য উদ্গীরণ করবে। দেখুন পরবর্তী টিকাসমূহ।
৬০৩২। অনাদি অনন্তকাল থেকে মানুষ মাথার উপরে নীল আকাশ দেখে থাকে যা থেকে তার ধারণা হয় যে, আকাশ হচ্ছে সুউচ্চ,পবিত্র, সীমাহীন, অনন্ত অসীম যা চিরদিন ব্যপী বিরাজমান, যা সৃষ্টি করা হয় নাই। এই আয়াতের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে যে, আকাশও সৃষ্ট পদার্থ এবং অস্থায়ী। আকাশের অস্তিত্ব ততক্ষণই থাকবে, যতক্ষণ স্রষ্টা তা রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার বেশী একমূহুর্তও আকাশের অস্তিত্ব বিরাজমান নয়। যে মূহুর্তে তা ভেঙ্গে ফেলার হুকুম হবে, সাথে সাথে সে হুকুম কার্যকর হবে এবং আকাশের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং আকাশের সকল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়ে পড়বে। সেটাই হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।কারণ সকল সৃষ্ট পদার্থের সাধারণ নিয়ম হচ্ছে তারা স্রষ্টার হুকুম তৎক্ষণাত মানতে বাধ্য। যদি তা তাদের ধ্বংসের প্রতি আহ্বান করা হয়, তবুও তা অমান্য করার সাধ্য তাদের নাই।
৬০৩৩। পৃথিবীর আকার গোলাকার এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে যে গুপ্ত ভান্ডার যেমন মূল্যবান ধাতু ও খনিজ পদার্থ অথবা যুগ যুগান্তরের সমাহিত মানুষের মৃতদেহ আছে, সব সেদিন বাইরে উদগিরণ করে দেবে। পৃথিবীর মাটির অভ্যন্তরে যা কিছু আছে সবই সেদিন সে উগরিয়ে বের করে দেবে। নূতন পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে পৃথিবী তার আকার হারিয়ে ফেলবে এবং সমতল ভূমিতে পরিণত হবে।
৬০৩৪। পৃথিবীর মাটি পচনশীল সকল বস্তুকে নিজ বক্ষে ধারণ করে যাতে আমাদের ধারণা হয় যে পৃথিবী কোন দিন ধ্বংস হবে না। কিন্তু নূতন ও স্থায়ী পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে এই চেনা জানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
৬০৩৫। পূর্বের আয়াতগুলি শর্তাধীন যার একটি সুনির্দ্দিষ্ট উত্তর থাকা প্রয়োজন। আর এই উত্তর হওয়া উচিত সূরা [ ৮২ : ৫ ] আয়াতের অনুরূপ অর্থাৎ মানুষের পুণরুত্থান ঘটবেই।
৬০৩৬। পৃথিবীতে মানব জীবন হচ্ছে সংগ্রাম ও দুঃখ কষ্টের জীবন। তবে এ জীবন শেষে পরলোকের জীবনের জন্য শুভসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের জন্য, যারা জীবনটাকে শুধুমাত্র আনন্দ ফূর্তির স্রোতে ভাসিয়ে না দিয়ে সৎ জীবন যাপনের জন্য কঠোর সংগ্রাম করে থাকে। পৃথিবীর জীবনে সৎ ও ভালো লোক তাদের সততা ও নিষ্ঠার জন্য দুঃখ কষ্ট ভোগ করে, আর অসৎ ও দুষ্ট লোকেরা তাদের পাপের জন্য কষ্ট পায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দুয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা হবে। যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জীবন যাপনের জন্য সারাটা জীবন দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছেন, তারা পরলোকের জীবনে আনন্দ স্রোতে ভাসবেন আর যারা পৃথিবীর জীবনটাকেই সর্বোচ্চ মনে করে আনন্দ ফুর্তিতে জীবনটাকে চিন্তাহীনভাবে অতিবাহিত করেছেন তারা সেদিন ক্রন্দন করবেন। প্রত্যেককে বিচার দিবসে আল্লাহ্র সম্মুখীন করা হবে বিচারের জন্য।
৬০৩৭। 'দক্ষিণ হস্ত ' - এজন্য দেখুন সূরা [ ১৭ : ৭১ ] ও [ ৬৯ : ১৯ ] আয়াত। যাদের দক্ষিণ হস্তে আমলনামা দেয়া হবে তারা হচ্ছেন ভাগ্যবান ব্যক্তি। এরাই তারা যারা পৃথিবীর জীবনটাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অতিবাহিত করেছেন। এদের হিসাব গ্রহণ করা হবে অত্যন্ত সহজ ভাবে। সমস্ত হিসাব গ্রহণের পরেও এদের যা প্রাপ্য তা থেকে বহুগুণ বেশী পুরষ্কার তাদের দেয়া হবে। এ সবই হবে আল্লাহ্র অসীম করুণার ফল।
৬০৩৮। ' স্বজনদিগের ' যদিও এই শব্দটির অর্থ নিজ প্রিয়জনরা,তবুও শব্দটি ব্যপক অর্থে গ্রহণ করতে হবে। ব্যপক অর্থে তা হবে সকল পূণ্যবান ভাই বোনেরা ; আধ্যাত্মিক ভাবে যারা একই পরিবার ভূক্ত। এই পূণ্যাত্মাদের মাঝে তার পূর্বের ও পরের সকলেই অন্তর্ভূক্ত।
৬০৩৯। দেখুন সূরা []৬৯ : ২৫ ] আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে পাপিষ্ঠদের 'আমলনামা ' তাদের বাম হস্তে দেয়া হবে। কিন্তু তাদের হাত বাঁধা থাকবে, মুক্ত থাকবে না। কারণ তাদের পাপ কাজই তাদের হস্তযুগলকে পৃষ্ঠদেশে বেঁধে রাখবে। সুতারাং পৃষ্ঠদেশে বাঁধা তাদের বা হাতই তাদের 'আমলনামা ' দেয়া হবে।
৬০৪০। পাপিষ্ঠরা শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মৃত্যু কামনা করবে। কিন্তু তাদের অবস্থা হবে জীবনামৃত। সম্পূর্ণ সুস্থ সুন্দর জীবন নয়, আবার মৃতও নয় [ ২০ : ৭৪ ] দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থা যে অবস্থা থেকে তাদের মুক্তি ঘটবে না।
৬০৪১। পৃথিবীর জীবন থেকে পরলোকের জীবনে পাপীদের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যাবে। পৃথিবীর জীবনের আত্ম-পরিতৃপ্তি ও আত্ম-গর্ব পরলোকের জীবনে তাদের জন্য দুঃখ কষ্ট বয়ে আনবে। তখন কান্না ও ক্ষুব্ধ আক্রোশ ব্যক্ত করা ব্যতীত আর কিছুই করার থাকবে না। দেখুন উপরের টিকা ৬০৩৬।

সূরা ইন্শিকাক্
সূরা ইন্শিকাক্ বা বিদীর্ণ হওয়া - ৮৪
২৫ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : ক্রম অনুযায়ী এই সূরাটি পূর্বোক্ত সূরার সমসাময়িক। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই সূরার বিষয়ের সাথে ৮১ নং ও ৮২ নং সূরার সামঞ্জস্য আছে। এই সূরাগুলির সাথে বর্তমান সূরাটির তুলনা করা যায়।
বর্তমান সূরাটি আরম্ভ করা হয়েছে কতিপয় মহাবিপর্যয়কারী ঘটনার বিবরণের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর বর্তমান রূপ বদলে যাবে এবং আল্লাহ্র ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতারাং নূতন পৃথিবী যা হবে অনন্তকাল স্থায়ী, সেই পৃথিবীর উপযোগী মুল্যবোধ সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রত্যেক মানুষের চেষ্টা করা উচিত।
সূরা ইন্শিকাক্ বা বিদীর্ণ হওয়া - ৮৪
২৫ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
১। যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, ৬০৩১
৬০৩১। চেনা জানা এই পৃথিবীর ধ্বংসের অর্থ হচ্ছে, নূতন ও স্থায়ী পৃথিবীর সৃষ্টির সূচনা। আর সেই সূচনা সংঘটিত হবে দুভাবে যার বিন্দুমাত্র ধারণা আমাদের জ্ঞান বা বুদ্ধির অগম্য। সূরা নং ৮২ ও ৮১ এর প্রারম্ভে পৃথিবী ধ্বংসের বিভিন্ন চিহ্নসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে এই সূরাতে দুটি চিহ্নের উল্লেখ করা হয়েছে :
১) আকাশ বিদির্ণ হয়ে যাবে এবং তার সব গুপ্ত রহস্য উদ্ভাসিত করে দেবে।
২) পৃথিবী আর গোল থাকবে না ; তা সম্প্রসারিত করে সমতলভূমিতে পরিণত করা হবে। পৃথিবীও তার অভ্যন্তরের সকল গুপ্ত রহস্য উদ্গীরণ করবে। দেখুন পরবর্তী টিকাসমূহ।
২। এবং ইহার প্রভুর [আদেশ ] পালন করবে, কেননা সে [ উহা ] মানতে বাধ্য ; - ৬০৩২
৬০৩২। অনাদি অনন্তকাল থেকে মানুষ মাথার উপরে নীল আকাশ দেখে থাকে যা থেকে তার ধারণা হয় যে, আকাশ হচ্ছে সুউচ্চ,পবিত্র, সীমাহীন, অনন্ত অসীম যা চিরদিন ব্যপী বিরাজমান, যা সৃষ্টি করা হয় নাই। এই আয়াতের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে যে, আকাশও সৃষ্ট পদার্থ এবং অস্থায়ী। আকাশের অস্তিত্ব ততক্ষণই থাকবে, যতক্ষণ স্রষ্টা তা রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার বেশী একমূহুর্তও আকাশের অস্তিত্ব বিরাজমান নয়। যে মূহুর্তে তা ভেঙ্গে ফেলার হুকুম হবে, সাথে সাথে সে হুকুম কার্যকর হবে এবং আকাশের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং আকাশের সকল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়ে পড়বে। সেটাই হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।কারণ সকল সৃষ্ট পদার্থের সাধারণ নিয়ম হচ্ছে তারা স্রষ্টার হুকুম তৎক্ষণাত মানতে বাধ্য। যদি তা তাদের ধ্বংসের প্রতি আহ্বান করা হয়, তবুও তা অমান্য করার সাধ্য তাদের নাই।
৩। যখন পৃথিবীকে সমতল করা হবে, ৬০৩৩
৬০৩৩। পৃথিবীর আকার গোলাকার এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে যে গুপ্ত ভান্ডার যেমন মূল্যবান ধাতু ও খনিজ পদার্থ অথবা যুগ যুগান্তরের সমাহিত মানুষের মৃতদেহ আছে, সব সেদিন বাইরে উদগিরণ করে দেবে। পৃথিবীর মাটির অভ্যন্তরে যা কিছু আছে সবই সেদিন সে উগরিয়ে বের করে দেবে। নূতন পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে পৃথিবী তার আকার হারিয়ে ফেলবে এবং সমতল ভূমিতে পরিণত হবে।
৪। এবং [ পৃথিবী ] তার অভ্যন্তরে যা আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করবে এবং [ পরিষ্কার ও ] খালি হয়ে যাবে,
৫। এবং ইহার প্রভুর [ আদেশ ] পালন করবে ৬০৩৪ কারণ সে [উহা ] মানতে বাধ্য ; [তখন তোমরা পুণরত্থিত হবেই] ৬০৩৫
৫। এবং ইহার প্রভুর [ আদেশ ] পালন করবে ৬০৩৪ কারণ সে [উহা ] মানতে বাধ্য ; [তখন তোমরা পুণরত্থিত হবেই] ৬০৩৫
৬০৩৪। পৃথিবীর মাটি পচনশীল সকল বস্তুকে নিজ বক্ষে ধারণ করে যাতে আমাদের ধারণা হয় যে পৃথিবী কোন দিন ধ্বংস হবে না। কিন্তু নূতন ও স্থায়ী পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে এই চেনা জানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
৬০৩৫। পূর্বের আয়াতগুলি শর্তাধীন যার একটি সুনির্দ্দিষ্ট উত্তর থাকা প্রয়োজন। আর এই উত্তর হওয়া উচিত সূরা [ ৮২ : ৫ ] আয়াতের অনুরূপ অর্থাৎ মানুষের পুণরুত্থান ঘটবেই।
৬। হে মানুষ ! তুমি তোমার প্রভুর দিকে যাওয়ার জন্য অবশ্যই কঠোর সাধনা করে থাক ৬০৩৬ পরে তুমি তার সাথে মিলিত হবে।
৬০৩৬। পৃথিবীতে মানব জীবন হচ্ছে সংগ্রাম ও দুঃখ কষ্টের জীবন। তবে এ জীবন শেষে পরলোকের জীবনের জন্য শুভসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের জন্য, যারা জীবনটাকে শুধুমাত্র আনন্দ ফূর্তির স্রোতে ভাসিয়ে না দিয়ে সৎ জীবন যাপনের জন্য কঠোর সংগ্রাম করে থাকে। পৃথিবীর জীবনে সৎ ও ভালো লোক তাদের সততা ও নিষ্ঠার জন্য দুঃখ কষ্ট ভোগ করে, আর অসৎ ও দুষ্ট লোকেরা তাদের পাপের জন্য কষ্ট পায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দুয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা হবে। যারা আল্লাহ্র রাস্তায় জীবন যাপনের জন্য সারাটা জীবন দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছেন, তারা পরলোকের জীবনে আনন্দ স্রোতে ভাসবেন আর যারা পৃথিবীর জীবনটাকেই সর্বোচ্চ মনে করে আনন্দ ফুর্তিতে জীবনটাকে চিন্তাহীনভাবে অতিবাহিত করেছেন তারা সেদিন ক্রন্দন করবেন। প্রত্যেককে বিচার দিবসে আল্লাহ্র সম্মুখীন করা হবে বিচারের জন্য।
৭। যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, ৬০৩৭
৮। তার হিসাব -নিকাশ নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
৮। তার হিসাব -নিকাশ নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
৬০৩৭। 'দক্ষিণ হস্ত ' - এজন্য দেখুন সূরা [ ১৭ : ৭১ ] ও [ ৬৯ : ১৯ ] আয়াত। যাদের দক্ষিণ হস্তে আমলনামা দেয়া হবে তারা হচ্ছেন ভাগ্যবান ব্যক্তি। এরাই তারা যারা পৃথিবীর জীবনটাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অতিবাহিত করেছেন। এদের হিসাব গ্রহণ করা হবে অত্যন্ত সহজ ভাবে। সমস্ত হিসাব গ্রহণের পরেও এদের যা প্রাপ্য তা থেকে বহুগুণ বেশী পুরষ্কার তাদের দেয়া হবে। এ সবই হবে আল্লাহ্র অসীম করুণার ফল।
৯। এবং সে তার স্বজনদের নিকট আনন্দের সাথে ফিরে যাবে। ৬০৩৮
৬০৩৮। ' স্বজনদিগের ' যদিও এই শব্দটির অর্থ নিজ প্রিয়জনরা,তবুও শব্দটি ব্যপক অর্থে গ্রহণ করতে হবে। ব্যপক অর্থে তা হবে সকল পূণ্যবান ভাই বোনেরা ; আধ্যাত্মিক ভাবে যারা একই পরিবার ভূক্ত। এই পূণ্যাত্মাদের মাঝে তার পূর্বের ও পরের সকলেই অন্তর্ভূক্ত।
১০। কিন্তু যার আমলনামা পিছনে পিঠে দেয়া হবে ৬০৩৯,
৬০৩৯। দেখুন সূরা []৬৯ : ২৫ ] আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে পাপিষ্ঠদের 'আমলনামা ' তাদের বাম হস্তে দেয়া হবে। কিন্তু তাদের হাত বাঁধা থাকবে, মুক্ত থাকবে না। কারণ তাদের পাপ কাজই তাদের হস্তযুগলকে পৃষ্ঠদেশে বেঁধে রাখবে। সুতারাং পৃষ্ঠদেশে বাঁধা তাদের বা হাতই তাদের 'আমলনামা ' দেয়া হবে।
১১। সে ধ্বংসের জন্য কাঁদবে ৬০৪০
১২। সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
১২। সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
৬০৪০। পাপিষ্ঠরা শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মৃত্যু কামনা করবে। কিন্তু তাদের অবস্থা হবে জীবনামৃত। সম্পূর্ণ সুস্থ সুন্দর জীবন নয়, আবার মৃতও নয় [ ২০ : ৭৪ ] দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থা যে অবস্থা থেকে তাদের মুক্তি ঘটবে না।
১৩। সে তো তার স্বজনদের মধ্যে আনন্দে ছিলো। ৬০৪১
৬০৪১। পৃথিবীর জীবন থেকে পরলোকের জীবনে পাপীদের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যাবে। পৃথিবীর জীবনের আত্ম-পরিতৃপ্তি ও আত্ম-গর্ব পরলোকের জীবনে তাদের জন্য দুঃখ কষ্ট বয়ে আনবে। তখন কান্না ও ক্ষুব্ধ আক্রোশ ব্যক্ত করা ব্যতীত আর কিছুই করার থাকবে না। দেখুন উপরের টিকা ৬০৩৬।
১৪। সে তো মনে করেছিলো, তাকে [ আমার ] নিকট ফিরে আসতে হবে না ৬০৪২
১৫। না, না ! নিশ্চয়ই তার প্রভু [ সর্বদা ] তার সম্বন্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
১৫। না, না ! নিশ্চয়ই তার প্রভু [ সর্বদা ] তার সম্বন্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।